Home / মিডিয়া নিউজ / নায়ক মান্নাকে হারানোর একযুগ

নায়ক মান্নাকে হারানোর একযুগ

ঢাকাই চলচ্চিত্রে একটা সময় তুমুল জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন তিনি। তার চলন-বলন, অভিনয় দক্ষতা,

সংলাপ, আবেগ- হঠাৎ করেই সেসময়ের চলচ্চিত্রে সবথেকে যেন আলাদা হয়ে ওঠে। দেশি

চলচ্চিত্রে তার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। একক নায়ক হিসেবে তার উত্থান এবং

জনপ্রিয়তা ১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কাশেম মালার প্রেম’ ছবি দিয়ে। তিনি নায়ক মান্না, আসলাম তালুকদার ওরফে চিত্রনায়ক মান্না। আমাদের চলচ্চিত্রের এক অন্যতম ধ্রুবতারা। এই নায়ক মান্নার মূল রাজত্ব শুরু হয় নব্বই দশকের শেষদিকে।

আজ এই চিত্রনায়কের ১২তম মৃত্যুদিন। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই মানুষটি আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৪ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। এই একযুগ পর এসেও তার জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। নায়কের মৃত্যুদিনে বাংলা ইনসাইডারের পক্ষ শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।

অভিনয়টাকেই নিজের সবকিছু মনে করতেন। যতটা সময় নিজেকে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত রেখেছিলেন সারাক্ষণ শুধু ইন্ডাস্ট্রির ভালো করার চিন্তাভাবনা করতেন, চলচ্চিত্রটাকে হৃদয়ে ধারণ করতেন। যিনি বিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছিলেন। অভিনয়ের সঙ্গে মিশে যেতেন যতক্ষণ কাজ করতেন।

তার অভিনয় দর্শকমনে অন্যরকম দোলা দিত। সহজ, সরল, দাপুটে কিংবা হিংস্র সব চরিত্রেই নিজের অভিনয়ের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। যার কারণে আজও দর্শক তাকে মনে রেখেছেন।

জীবদ্দশায় অনেক সুপারহিট চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন মান্না। অভিনয় করেছেন প্রায় সাড়ে তিনশ ছবিতে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমা হচ্ছে- ‘সিপাহী’, ‘যন্ত্রণা’, ‘অমর’, ‘পাগলী’, ‘দাঙ্গা’, ‘ত্রাস’, ‘জনতার বাদশা’, ‘লাল বাদশা’, ‘আম্মাজান’, ‘দেশ দরদী’, ‘অন্ধ আইন’, ‘স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ’, ‘অবুঝ শিশু’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘মা বাবার স্বপ্ন’, ‘হৃদয় থেকে পাওয়া’ ইত্যাদি।

মান্না শুধু বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সফল প্রযোজকও। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল কৃতাঞ্জলি প্রকাশনী। তার প্রযোজিত প্রতিটি চলচ্চিত্রই সেসময় ব্যবসাসফল হয়েছিল। ছবিগুলো হলো- লুটতরাজ, লালবাদশা, আব্বাজান, স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ, দুই বধূ এক স্বামী, মনের সাথে যুদ্ধ, মান্না ভাই, পিতা মাতার আমানত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মান্না জন্মেছিলেন ১৯৬৪ সালে, টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার এলেঙ্গায়।

Check Also

পরীমনির দুষ্টুমিতে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন শাকিব!

কখনও মেঘ ছুঁয়েছেন? যদি না ছুঁয়ে থাকেন তাহলে এখনই মেঘের দেশ সিলেটের জাফলং থেকে ঘুরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.