Home / মিডিয়া নিউজ / আমাদের সিনেমায় দেখা যায়, ধনীর মেয়ে গরিবের ছেলের সঙ্গে প্রেম: কাজী হায়াৎ

আমাদের সিনেমায় দেখা যায়, ধনীর মেয়ে গরিবের ছেলের সঙ্গে প্রেম: কাজী হায়াৎ

ঢাকাই সিনেমায় দীর্ঘ দিনের পথ চলা পরিচালক কাজী হায়াৎের। তিনি তার ক্যারিয়ারে প্রায় ৫০টি

সিনেমা পরিচালনা করেছেন। এমনকি অনেক সিনেমায় তিনি নিজেও অভিনয় করেছেন। তার পরিচালিত

সিনেমা গুলো দর্শক মাঝে বেশ প্রসংশিত হয়েছে। এবং এই সিনেমা পরিচালনার মধ্যে দিয়ে ঢাকাই

সিনেমায় খ্যাতির শীর্ষ স্থান দখল করতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি চলমান দেশের সিনেমা প্রসঙ্গে বেশ কিছু কথা জানালেন এই গুনী পরিচালক।

সহকারী পরিচালক থেকে পূর্ণ পরিচালক—১৯৭৮ থেকে ২০২১। কেটে গেছে ৪৭ বছর। মুক্তি পেয়েছে ৫০টি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র। প্রথম চলচ্চিত্র ফাদার দিয়েই নিজেকে চিনিয়েছেন তিনি। তাঁর ক্যারিয়ারের ৫০ তম চলচ্চিত্র ‘বীর’। চলচ্চিত্রে সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্প্রতি তাঁকে দেওয়া হলো ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার। কাজী হায়াতের ৪৭ বছরের দীর্ঘ ভ্রমণ নিয়ে এখন তৈরি হচ্ছে আরও একটি চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রের নাম কাজী হায়াতের সিনেমা থেকে সিনেমা। যেটা মূলত হবে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রেরই সংকলন। এই পরিচালক বললেন, ‘মুক্তিপ্রাপ্ত ৫০ চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে বাছাই করা কয়েকটি চলচ্চিত্রের অংশবিশেষ ও গান দিয়ে তৈরি হচ্ছে এই চলচ্চিত্র।’ এই সিনেমায় কাজী হায়াৎ নিজেও অভিনয় করছেন। এই মুহূর্তে ‘জয় বাংলা’ ছবিটি পরিচালনা করছেন কাজী হায়াৎ। শুটিং শেষ হতে আরও সময় লেগে যাবে। মাঝে কঠিন অসুস্থতায় পড়েছিলেন কাজী হায়াৎ। আর চলচ্চিত্র নির্মাণে ফিরবেন কি না, তা নিয়েও ছিল সংশয়। তিনি নিজেও জানিয়েছিলেন, ৫০তম চলচ্চিত্রটি বানিয়ে যেতে চান। সুস্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত ‘বীর’ নামের সেই চলচ্চিত্রটি শেষ করেছেন।

দেশের চলচ্চিত্র নিয়ে এখন অনেকেরই নানা অসন্তোষ। কারও মতে, ভালো মানের চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে না বলেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন দর্শক। চলচ্চিত্রের বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেও অসহিষ্ণু সম্পর্ক বিরাজ করছেন। এসব বিষয়ে কাজী হায়াৎ বললেন, ‘এককথায় যদি বলি, সামগ্রিক চলচ্চিত্রের অবস্থা তো ভালো না। চলচ্চিত্রের ভালো করতে হলে এখন সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো উপায় নেই।’ সরকার যদিও অনুদান দিচ্ছে, এরপরও মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের দিকে নজরটা বেশি দিতে হবে বলে মনে করছেন কাজী হায়াৎ। তিনি বললেন, ‘আমার বক্তব্য পরিষ্কার, সরকারকে মূলধারার চলচ্চিত্রে অনুদান দিতে হবে। মূলধারার চলচ্চিত্র যদি বেঁচে না থাকে, তাহলে একদিন চলচ্চিত্রই থাকবে না। মূলধারার চলচ্চিত্রের ফাঁকে সব সময় বিকল্পধারা বিকশিত হয়। আর এই চলচ্চিত্র যদি না থাকে, দেশের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।’ জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের মোড়কেই সমকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক অসংগতিগুলো তুলে আনেন কাজী হায়াৎ। মাদক, ইভ টিজিং ইস্যুগুলো নিয়ে যখন প্রবল আলোচনা, তখন এসব বিষয় নিয়ে ছবি করেছেন এই পরিচালক। অনেকের মতে, তাঁর ছবির সংলাপও বেশ স্পষ্ট, সরাসরি উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আঘাত করে। এসব তিনি সচেতনভাবেই করেন বলে জানালেন। আর এসব করতে গিয়ে বাধার মুখেও পড়েছেন, তবে দমে যাননি। তিনি তাঁর মতো করে গল্প বলে গেছেন।

কাজী হায়াৎ বলেন, ‘আমাদের সিনেমায় দেখা যায়, ধনীর মেয়ে গরিবের ছেলের সঙ্গে প্রেম করছে। মাঝখানে মেয়ের মামাতো, নাহয় চাচাতো ভাই এসে মা/র/পি/ট করল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি প্রতিশোধ চলতে থাকল। একদম শেষে এসে দেখা গেল প্রেমের জয় হলো। দর্শক দেখে হল থেকে বেরিয়ে বাড়িতে চলে গেলেন। কী পেলেন তাঁরা সিনেমা থেকে? এ ধরনের গল্পের সিনেমা হরহামেশাই হচ্ছে। সমাজের কথা, মানুষের কথা, দেশের কথা—এর মধ্য দিয়ে বিনোদন। কজন বলেন এসব কথা? কিন্তু আমি সেই গোড়া থেকেই বলার চেষ্টা করেছি। সমাজের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।’ সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রেখে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কথা বলে যেতে চান কাজী হায়াৎ। কারণ, তাঁর মতে, চলচ্চিত্র মানুষের আবেগ সৃষ্টি করে। মানুষে মানুষে সম্প্রীতি তৈরি করে। তাই সিনেমা তৈরির ব্যাপারে সরকারকে নজর দিতে হবে বলে জানালেন কাজী হায়াৎ।

দেশের সিনেমা ব্যবস্থা শোচনীয় অবস্থায় পতিত হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে এই সংকটময় পরিস্তিতি বিরাজ করছে দেশের সিনেমা অঙ্গনে। এমনকি একে একে বন্ধ হচ্ছে দেশের সিনেমা হল গুলো। তবে চলমান এই সংকটময় পরিস্তিতিতে উত্তরনের চেষ্টা করছে বিনোদন অঙ্গনের ব্যক্তিরা। ইতিমধ্যে এই সংকট কাঁটিয়ে উঠতে নতুন প্রজন্মের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক-প্রযোজকরা কাজ কছে।

Check Also

ভালো নেই পূর্ণিমা

ঢাকাই সিনেমার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা ভালো নেই। হঠাৎ করে কয়েকদিন ধরে ঠাণ্ডাজ্বর ও গলা ব্যথায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Recent Comments

No comments to show.