Home / মিডিয়া নিউজ / জয়া কোন মানের অভিনেত্রী আর সে কোন মানের অভিনয় করেছে :চঞ্চল

জয়া কোন মানের অভিনেত্রী আর সে কোন মানের অভিনয় করেছে :চঞ্চল

নিজেকে নায়ক বা তারকা নয়, ভাবেন একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে। নাটকে নিয়মিত হলেও বড়

পর্দায় তার দেখা মেলে দীর্ঘ বিরতির পর। তার বিশ্বাস, দর্শককে ফাঁকি দিলে দর্শকও তাকে ফাঁকি দেবে।

নাটকে অভিনয় করাটা তার জীবন-যাপনের জন্য, আর সিনেমাটা সম্মানের। তিনি জনপ্রিয় অভিনেতা

চঞ্চল চৌধুরী। অভিনেত্রী জয়া আহসান প্রযোজিত ও অনম বিশ্বাস পরিচালিত চলচ্চিত্র \\\’দেবী\\\’তে \\\’মিসির আলী\\\’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯ অক্টোবর ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। এদিকে ৯ অক্টোবর সকালে প্রায় আধ ঘণ্টার আলাপে ছবিটির সাতটি দিক নিয়ে কথা বলেছেন চঞ্চল।

: আপনার আগে কয়েকজন অভিনেতা মিসির আলী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাদের থেকে আপনার অভিনীত মিসির আলী চরিত্রটি কোন দিক থেকে আলাদা হবে?

চঞ্চল চৌধুরী: আমি যখন মিসির আলী করেছি, তখন আগে যারা এ চরিত্রটি করেছেন, সে কাজগুলো দেখিনি। কারণ আমি চাই নাই কোনোভাবে তাদের অভিনয় আমাকে প্রভাবিত করুক। আমি নতুনভাবে মিসির আলী হতে চেয়েছি। এটি তো হুমায়ূন আহমেদের লেখা একটি চরিত্র। এটা তো বায়োপিক নয়, যে হুবহু ওভাবে গেটআপ নিয়ে ওরকমভাবেই করতে হবে। তবে মিসির আলী আমরা গল্পের সাথে মিল রেখে করার চেষ্টা করেছি, যেন আগের থেকে ভিন্ন কিছু হয়। উপন্যাস থেকে যখন সিনেমা হয়, তখন ডিরেক্টর তার মতো করেই গল্পটা সাজান, যাতে গল্প ও ক্যারেকটারটা নষ্ট না হয়, মিসির আলীকে দেখে দর্শক বিশ্বাস করবে, হ্যাঁ এটাই মিসির আলী। সেভাবেই চরিত্রায়নটা করা হয়েছে।
: হুমায়ূন-ভক্ত কিংবা যারা মিসির আলীর পাঠক, তারা তো নিজের মতো করে মিসির আলীর একটা অবয়ব তৈরি করে নিয়েছেন। বিষয়টা হলো তারা যেমন করে ভাবেন, সেরকম না হলে তখন তারা সে চরিত্রটিকে গ্রহণ না করার একটা বিষয় থাকে। কারণ এর আগে হুমায়ূন আহমেদের একটা হিমু বা মিসির আলী ক্লিক করে নাই। এটার জন্য কেমন প্রস্তুতি ছিল?

চঞ্চল চৌধুরী: যদি ধরি দুই কোটি হুমায়ূন আহমেদের পাঠক আছে, তাহলে দুই কোটি ইমেজকে তো আর একসঙ্গে মেলানো সম্ভব না। যে ডিরেক্টর, সে আসলে কীভাবে মিসির আলীকে দেখাতে চায়, যে অ্যাক্টর সে আসলে কীভাবে দেখাতে চায়, সেটাই বিষয়। আমাদের এ জায়গাটাতে প্রায়োরিটি দিতে হবে। কারণ সবার মধ্যেই একটা মিসির আলীর ইমেজ আছে। আরেকটা কথা হচ্ছে, যখন কোনো বিখ্যাত উপন্যাস থেকে কোনো সিনেমা হয়, তখন আসলে সেই উপন্যাস কিংবা গল্পের সঙ্গে মিল রেখে শত ভাগ বানানো সম্ভব হয় না।

টেকনিক্যাল প্রয়োজনে টুকটাক চেঞ্জ করতে হয়। যারা হুমায়ূন আহমেদের পাঠক, যারা দেবী পড়েছেন কিংবা মিসির আলীকে পছন্দ করেন, হুবহু তারা যদি \\\’দেবী\\\’ উপন্যাসটা পড়ে সিনেমা হলে যান, তাহলে হবে না। গল্পের মূল যে ভাব, সেটা যেন নষ্ট না হয়। আমরা সেটা চেষ্টা করেছি। এটা হুমায়ূন আহমেদের \\\’দেবী\\\’ উপন্যাস অবলম্বনে বা অনুপ্রেরণায়।

যদি কেউ ভাবে এখানে শত ভাগ দেবী উপন্যাসে যা যা লেখা রয়েছে, সেটাই থাকবে। তাহলে অনেকেই বিভ্রান্ত হতে পারেন। কারণ অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় বইয়ের সে চরিত্রের সঙ্গে হুবহু মেলানোর কথা বলে বিভিন্ন মাধ্যমে লিখেছেন। আমার কাছে মনে হয়, দর্শক সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে ছবিটি হলে গিয়ে দেখে চরিত্রটি তাদের কাছে অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য হবে।

: মিসির আলী চরিত্রে অভিনয় করা তো এক ধরনের চ্যালেঞ্জও। এটা কেন গ্রহণ করলেন?

চঞ্চল চৌধুরী: এই চ্যালেঞ্জটা তো গ্রহণ করতেই হয়। আমার মূল চ্যালেঞ্জ ছিল \\\’আয়নাবাজি\\\’ দেখার পর দর্শকের যে এক্সপেকটেশন আমাকে নিয়ে কিংবা আমার ছবিটাকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়টা। কারণ তারা এরপরের ছবিটি এর থেকেও ভালো চাইবে। আমাকে তো সেই কোয়ালিটি কিংবা স্ট্যান্ডার্ডটা মেনটেইন করতে হবে। ওই চাপ নিয়ে কাজটা করেছি। আর চাপ তো নিতেই হবে।

কারণ \\\’দেবী\\\’র পরও তো আমাকে অন্য কাজ করতে হবে। তখনো তো আমাকে চ্যালেঞ্জ বা চাপ নিয়ে কাজ করতে হবে। ব্যাপারটা এ রকমই। একজন অভিনেতার কাজই হলো চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করা। চাপটা বেশি ছিল, কারণ মিসির আলী চরিত্রটা বহুল পঠিত ও পরিচিত। যদি পরিচিত চরিত্র না হতো, তাহলে অতটা পেসার আমি ফেস করতাম না। আমি আমার মতো করেই করতাম। সবকিছু যাতে গ্রহণযোগ্য হয়-চাপ, চ্যালেঞ্জ এবং টেনশন তিনটাই। আশা করি দর্শকের ভালো লাগবে। এটুকু আমি বলতে পারি।

: আমাদের দেশের ফিল্মের বাণিজ্যিক যে অবস্থা, তাতে করে খুব কম অভিনেতা-অভিনেত্রীই তাদের চরিত্রটির জন্য প্রস্তুতির জন্য যথাযথ সময় পান না। এ ছবির বেলায় আপনি ঠিক কেমন সময় পেয়েছেন?

চঞ্চল চৌধুরী: আমি নিজের অন্যান্য কাজের মধ্য থেকে নিজের মতো করে সময় বের করে নিই। যখন আমি সিনেমাতে কাজ করি, আয়নাবাজির সময় আমি আট মাস কোনো কাজ করি নাই। রেগুলার কাজ বাদ দিয়ে কাজটা করেছি। একজন শিল্পী যখন স্বার্থকভাবে দর্শকদের সামনে নিজেকে তুলে ধরতে চায়, এ জন্য তাকে যে সময়টা দিতে হবে, সে সময়টা তাকে দিতে হবে।

কারণ এখানে মনোযোগ ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয় আছে। সাধ্য-সাধনা করে অনেক কিছু মিলিয়ে করতে হয়। এটা তো আর অফিসিয়াল কোনো দায়িত্ব না। তাই আমি অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়েও এ কাজগুলো করি, যে কারণে দর্শকদের কাছে অনেক অংশেই আমার কাজগুলো গ্রহণযোগ্যতা পায়। অনেকই পছন্দ করেন। আমাদের যারা প্রটেনশিয়াল শিল্পী আছেন তারা যদি এভাবে সময় দেন, আমার ধারণা ভালো কাজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

চঞ্চল নিজেকে নায়ক বা তারকা নয়, ভাবেন একজন অভিনয়শিল্পী। ছবি:

: মিসির আলী যে ধরনের চরিত্র, তাতে অভিনয়ের জন্য ফিজিক্যাল ট্রান্সপ্ল্যানটেশন ও মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতির বিষয় ছিল নিশ্চয়ই। এর জন্য কী কী করতে হয়েছে?

চঞ্চল চৌধুরী: প্রথমে আমাদের লুকটা সেট করতে হয়েছে। মানে আমি মিসির আলী করব। কিন্তু এ চরিত্রটি দেখতে কেমন, সেটা প্রথমে আমি ও ডিরেক্টরিয়াল টিমসহ সবাই বসে ক্যারেকটার বিফ্রিং, দেখতে কেমন হতে পারে, এ নিয়ে কাজ করেছি। এমনও হয়েছে সকাল থেকে রাত ১১-১২টা পর্যন্ত কাজ করেছি। কখনো চুল, লম্বা দাড়ি, কখনো ছোট দাড়ি, কখনো শুধু গোঁফ নিয়ে আলাদা আলাদা করে কাজ করেছি।

নানানভাবে চেঞ্জ করে, কখনো পাঞ্জাবি পড়ে, কখনো শার্ট পড়ে। আমার জন্য চশমার ৮০-৯০টি ফ্রেম আনা হয়েছিল। কোন ফ্রেমটা মিসির আলী পরবে, কোন ঘড়িটা পরবে। এমন করে নানান বিষয় নিয়ে গবেষণা হয়েছে। এ রকম নানানভাবে বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করার পর যখন দেখা গেল যে পরচুলাটা লাগানো হয়েছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে, এটা ফলস। তখন ফাইনাল যেটা সিদ্ধান্ত হলো, আমি পারমানেন্টলি চুলটা সাদা করে ফেলব।

তার জন্য আবার ছয় ঘণ্টা সময় নিয়ে আমি সে কাজটা করেছি, যাতে ন্যাচারাল এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়, যা দিনের পর দিন গবেষণা করে বের করতে হয়েছে। যখন আমরা ফাইনাল ডিসিশান নিয়েছি, সবাই মিলে যখন রাজি হলো, তখন অভিনয়ের বিষয়টা নিয়ে কাজ করেছি। মিসির আলীর হাঁটা-চলা-ফেরা, লুক যখন ফিক্সড করা হয়, তখন কিন্তু একটা অ্যাকটিং লাইনও বের হয়।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে যেটা হয় কসটিউম পরে যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই, তখন অটো অভিনয়ের কিছু বিষয় নাজেল হয়। আমিও তো মিসির আলীর এক ধরনের ইমেজ দেখি। আমার মনে হয়, হুমায়ূন আহমেদ স্যার নিজেই মিসির আলী। এটা আমার বিশ্বাস। ওই বিশ্বাসের আদল থেকেই চরিত্রায়ন করা।

এ ছবির জন্য আলাদা করে ভোকালটা ক্রিয়েট করে কাজ করতে হয়েছে। এটা আসলে খুব কঠিন একটা কাজ। ডাবিংয়ের সময় দেখা গেল, যে অ্যাক্টিংটা করেছি, সেটা লাউড এবং মনে হচ্ছে যে ন্যাচারাল হওয়া দরকার। পরে আবার রি-ডাব করতে হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মিসির আলীর লুক, গেট-আপ চলা-ফেরা অ্যাকটিং কথা বলার ধরনসহ অনেক কিছু আমাকে গবেষণা করে বের করতে হয়েছে।

আর এ বিষয়টাকে স্যাকরিফাইস বলব না; এটা আমার দায়িত্ব। যে চরিত্র পাব, প্রকৃত অর্থে সে চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য যে সময়টা দিতে হবে। আমি সে সময়টা দিই। মিসির আলীর জন্য আমার তিন-চার মাস সময় দিতে হয়েছে। চরিত্র অনুযায়ী সময়টা নির্ভর করে। কাজে ফাঁকি দিই না। এটা আমার স্যাটিসফেকশন।

আমি ফাঁকি দিই না বিধায় দর্শকও আমাকে ফাঁকি দেয় না। প্রত্যেক মানুষকেই কিন্তু সেক্রিফাইস করতে হয়। যে সেক্রিফাইস করতে পারে না, সে আসলে স্বার্থপর। আর স্বার্থপর মানুষ কোনো কিছু অ্যাচিভ করতে পারে না। শিল্পী হিসেবে আমার যে দায়িত্ব, সেটা আমি পালন করেছি।

আমি মনে করি, এটাই আমার চলার রাস্তা। একটা ভালো কাজ করতে গেলে যে পরিমাণ সময় দিতে হয়, সে পরিমাণ টাকা কিন্তু আমরা পাই না। একজন শিল্পীর মধ্যে যদি লোভটা কাজ করে, তখন আর তার শিল্পচর্চাটা হয় না। সে লোভটাকে সেক্রিফাইসটা করতে হয়েছে অনেক বেশি। সেটা সবদিক থেকেই।

মিসির আলির লুকে চঞ্চল চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

: \\\’রানু\\\’ চরিত্রে জয়া আহসান নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পেরেছেন?

চঞ্চল চৌধুরী: রানু চরিত্রে জয়ার বিকল্প বাংলাদেশে নাই। জয়া যে অভিনয় করেছে রানু চরিত্রে, সেটা কেউ পারত না বলব না। কিন্তু জয়া যেটা করেছে, সেটা অসাধারণ। দর্শক হলে যখন দেখবে, তখন বুঝতে পারবে এটা-জয়া কোন মানের অভিনেত্রী আর সে কোন মানের অভিনয় করেছে। বাংলাদেশে যাদের চরিত্রটি করার সামর্থ্য আছে, তাদের মধ্যে অন্যতম জয়া।

এদিকে দেখছি কেউ কেউ রানুর বয়স নিয়ে কথা বলছে। এখানে ওটা মাথায় রাখলে হবে না, যেটা বইতে আছে। কারণ এটা সিনেমা। দর্শককে অভিনয় দক্ষতা দিয়ে তো হলে টানতে হবে। মুগ্ধ করতে হবে। তা না হলে দর্শক তো আর হলে যাবে না। আমি এটুকু বলতে পারি, দর্শক হলে গিয়ে যে \\\’দেবী\\\’ দেখবেন, তা তাদের মনের মধ্যে গেঁথে থাকবে।

: \\\’দেবী\\\’তে আপনার কাজের জায়গাটা নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট? কারণ সময়, চরিত্র ধারণ কিংবা প্রস্তুতির বিষয়। এ ছাড়া বাজেটের বিষয় রয়েছে। এ বিষয়গুলোতে প্রায়ই সংকটের কথা শোনা যায়।

চঞ্চল চৌধুরী: আমরা অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে কাজ করি। তার মধ্যে বাজেট স্বল্পতাসহ নানা ধরনের সংকট রয়েছে। তবে সবকিছুর পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে দর্শক। দর্শক যেন হলে এসে ছবিটা দেখে। তখন সিনেমার জন্য ভালো হবে।
কারণ তাহলে আরেকটা ভালো সিনেমা বানানো যাবে। আমাদের সিনেমার যে নাজুক অবস্থা, সেখান থেকে উত্তরণের জন্য আমরা ভালো কিছু করার চেষ্টা করব। আর দর্শককে সে ছবিটা এসে দেখতে হবে। আমার ধারণা ও বিশ্বাস, সব শ্রেণির দর্শকের কাছে ছবিটা ভালো লাগবে।

আমার কাছে যে কাজটা ভালো লাগে, সেটাই বলি দর্শককে দেখতে। আমার ভালো না লাগলে বলি না। তবে আমি একটা বিষয় বলতে চাই, দর্শক যেন এবার ইউটিউবে আর লিংক না খুঁজে, ছবিটা মুক্তির পর। যারা বাংলাদেশি সিনেমার ভক্ত, তাদের এ বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। হলে এসে ছবিটা দেখুক। তারপর না হয়, ছবিটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করা যাবে। প্রিয় বিনোদন

Check Also

ভালো নেই পূর্ণিমা

ঢাকাই সিনেমার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা ভালো নেই। হঠাৎ করে কয়েকদিন ধরে ঠাণ্ডাজ্বর ও গলা ব্যথায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Recent Comments

No comments to show.