Home / মিডিয়া নিউজ / এখনো পর্যন্ত চুপ আছি সব ইতিহাস বললে আমার স্ত্রী গ্রেপ্তার হবে : সিদ্দিকুর রহমান

এখনো পর্যন্ত চুপ আছি সব ইতিহাস বললে আমার স্ত্রী গ্রেপ্তার হবে : সিদ্দিকুর রহমান

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় একজন অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক। যিনি সিদ্দিক নামে বেশি পরিচিত।

মুলত তিনি কমেডি অভিনয়ের জন্য বেশি পরিচিত। বাংলাদেশের সকল বড় বড় অভিনেতাদের সাথে

অভিনয় করেছেন গুনি এই অভিনেতা। তিনি এক পর্বের টেলিভিশন নাটক ও ধারাবাহিকে বেশিরভাগ

সময় কমেডি চরিত্রে অভিনয় করে থাকেন। ২০১৩ সালে তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ’এই তো ভালোবাসা’ মুক্তি পেয়েছিল। তার বিপরীতে নায়িকা ছিলেন অভীনেত্রী নিপুন। সম্প্রতি অভিনয়, নির্মাণ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে দেশের জনপ্রিয় এক দৈনিক পত্রিকার এর মুখোমুখি হয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান।পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা হুবহু তুলে ধরা হলো:-
শুরুতে জানতে চাই, সমসাময়িক ব্যস্ততার কথা…

আপাতত, ব্যস্ত আছি নতুন একটি ধারাবাহিকের কাজে। আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন ধারাবাহিক নাটক ’রতন পাগলা’ নির্মাণের কাজ শুরু করছি। এর রচনা, পরিচালনা ও চিত্রনাট্য সবই আমার। গল্পের গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র রতন পাগলা আর সেই চরিত্রে আমি নিজেই অভিনয় করবো। তাই নিজেকে পাগলের মতো তৈরি করছি। মানে মুখভর্তি দাঁড়ি, অগোছালো একজন মানুষ।

গল্পটি কী ধরনের
গল্পটি আমাদের চিরচেনা। প্রতিটি এলাকায় সিটি করপোরেশনের একজন প্রতিনিধি থাকে। যাকে আমরা কমিশনার বলি। তার কাছে এলাকার জনগণের অনেক চাওয়া। কিন্তু জনগণের সব চাওয়া সে পূরণ করতে পারে না। আমার নাটকে রতন পাগলা, পাগল হয়েও সে কাজগুলো করে থাকে। যে কারণে এলাকার মানুষজন তাকে খুব পছন্দ করে। এমনই কিছু ঘটনা নিয়ে নাটকের কাহিনী গড়ে উঠেছে। ’রতন পাগলা’ ধারাবাহিকটি প্রচার হবে ইটিভিতে।

শুনলাম, চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন?

ঠিক শুনছেন, ’রেডিও ৭১’ শিরোনামে একটি চলচ্চিত্র বানানোর পথে এগুচ্ছি। সরকারি অনুদানের জন্য আবেদনও করেছি। ’রেডিও ৭১’-এর গল্প, ভাবনা সব কিছুই আমার। মহান মুক্তিযুদ্ধে সময় সবচেয়ে বড় হিরো ছিল রেডিও। সেই রেডিওকে কেন্দ্র করে আমার এই চলচ্চিত্র। খুব শিগগিরই সংবাদটি সবাইকে দেব।

অভিনয়ের খবর বলুন
নির্মাণের কারণে সম্প্রতি বেশ কিছু নাটকের কাজ ছেড়ে দিয়েছি। ক’দিন ধরে এককের কাজ খুব একটা করছি না। ধারাবাহিকের কাজগুলো চলছে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলগুলোতে আমার অভিনীত সাতটা নাটক প্রচার হচ্ছে। এ তালিকায় আছে ’কমেডি ৪২০’, ’লাকি-১৩’, ’ছায়াবিবি’, ’মুসকিল আসান’ ইত্যাদি। এছাড়াও সম্প্রতি আরটিভিতে প্রচার হচ্ছে ’শান্তি মলম ১০টাকা’ নামে একটি ধারাবাহিক।

এবার আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে, আপনার স্ত্রীর (মডেল-অভিনেত্রী মারিয়া মিম) অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। আপনি নাকি তাকে মিডিয়ায় কাজ করতে দিতে চান না?

চেয়েছিলাম বিষয়টি নিয়ে কথা না বলতে। কিন্তু এখন না বলেও থাকতে পারছি না। কারণ আমার স্ত্রী সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে, সে আমার সংসার করবে না, আমি তাকে অভিনয় করতে দেই না, আরও কত কি। অনেকেই হয়তো আমাকে খারাপ ভাবচ্ছেন। দেখুন, আমি মিডিয়ায় অনেক বছর ধরে কাজ করি। আমার একটা সুনামও আছে। আর্থিক দিক থেকেও আমি বেশ স্বচ্ছল। আমি চাই না আমার স্ত্রী মিডিয়ায় কাজ করুক। আমাদের একটা সন্তান আছে। ওর নাম আরশ হোসাইন, ওর বয়স সাড়ে ৬ বছর। ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি ওকে অনেক বুঝিয়েছি। মনে হচ্ছে, লাভ হয়নি। সত্যি বলতে আমি চাই না, আমার স্ত্রী মিডিয়ায় কাজ করুক। এই নিয়েই মূলত আমাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব। গত আড়াই-তিন মাস ধরে রাগ করে সে চলে গেছে। বহুবার ওকে ফোন দিয়েছি কিন্তু সে কিছুই শুনছে না। সন্তানের দিকে তাকিয়ে অনেক কিছুই সহ্য করেছি। কিন্তু এরও তো একটা শেষ আছে। ও যদি বিচ্ছেদ চায় আর যদি বিচ্ছেদই হয়, তখন অনেক কিছুই প্রকাশ্যে আনবো।

সে তো আপনাকে নিয়ে অনেক অভিযোগ করছে। তাকে নিয়ে আপনার কি কোনো অভিযোগ আছে
অভিযোগের শেষ নেই। বিচ্ছেদের পর সংবাদ সম্মেলন করে প্রমাণসহ তা মিডিয়ায় তুলে ধরবো। আমরা ১২-১২-১২ তে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর বিয়ে করেছি ২০১২ সালের ২৪ মে। সংসার জীবনে ওর কাছ থেকে আমি নানাভাবে প্রতারিত হয়েছি। ওসব কথা বলতে চাই না। শুধু এইটুকু বলি, সব ইতিহাস বললে আমার স্ত্রী গ্রেপ্তার হবে। এখনো পর্যন্ত চুপ আছি ছেলের কারণে।

আপনারা তো প্রেম করে বিয়ে করেছেন
ভুলটা তো সেখানেই করেছি। আমরা খুব বেশি দিন প্রেম করিনি, এক বছর হবে। আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার পরিচয় ফেসবুকের মাধ্যমে। বিয়ের আগে, ওর সম্পর্কে আমি খুব বেশি কিছু জানতে পারিনি। সে আমার কাছে অনেক কিছু গোপন রেখেছে, যা পরবর্তীতে জানতে পেরেছি। তারপরও কিছু বলিনি। সে আমাকে নানাভাবে হুমকি-ধামকিও দিচ্ছে। কিছুদিন আগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলাও করেছি। ওর সম্পর্কে এখনো মুখ খুলিনি, সন্তানের দিকে তাকিয়ে নিশ্চুপ আছি। আমার সন্তানও ওর কাছে যেতে চায় না। মায়ের প্রতি তার ভালোবাসাও নেই।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে থিয়েটার আরামবাগে অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে তার অভিষেক ঘটে। এরপর জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক তারিক আনম খানের নির্মিত একটি চকলেটের বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহনের মাধ্যমে শোবিজে আগমন করেন কিন্তু তখন তিনি মূলত সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৫ সালে দীপংকর দীপন নির্মিত “রৌদ্র ও রোদেলার কাব্য” নাটকে “কাউয়া সিদ্দিক” চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নাটকে অভিনয় শুরু করেন। পরবর্তিতে ফাহামির পরিচালনায় কবি বলেছেন ও ধারাবাহিক নাটক হাউসফুলের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০১৩ সালে তিনি আরটিভির প্রযোজনাতে “এইতো ভালোবাসা” নামের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

Check Also

খোঁজ পাওয়া গেল সালমান শাহের আরেক নায়িকা সন্ধ্যার

ঢালিউডে তিনি যাত্রা করেছিলেন ‘প্রিয় তুমি’ সিনেমা দিয়ে। সেটা ১৯৯৫ সালের কথা। কলেজে পড়ার সময় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Recent Comments

No comments to show.