Home / মিডিয়া নিউজ / ‘মীরাক্কেল’ করেই আমার ঘর-সংসার চলে’

‘মীরাক্কেল’ করেই আমার ঘর-সংসার চলে’

প্রায় একবছর পর আবার টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যাবে মিরাক্কেলের মিরকে৷ এরমধ্যে মিরের আক্কেলও

বেড়েছে খানিক৷ বিফ নিয়ে কিছু বললেন না৷ নইলে, বাকিটা আগের মতোই ‘ননভেজ’৷ মীর-কে টেস্ট

করে এবিষয়ে প্রশ্ন করলেন ভারতীয় সংবাদপত্র এই সময়। আর এই সময়েকে দেয়া মিরের সাক্ষাৎকারটি

এমটি নিউজের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলেধরা হলো : অন্য সময় : আপনি ভয়ঙ্কর ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন, সেখান থেকে শুরু করা যাক… মীর : হ্যাঁ৷ শুরু করুন৷ অন্য সময় : সত্যি এটাই যে জি বাংলা আপনাকে প্রায় বছর খানেক ‘ব্যান’ করে দিয়েছিল! মীর : পুরো একবছর হয়নি৷ তবে বুঝতেই তো পারেন, জি বাংলার শো ‘মীরাক্কেল’ করেই আমার ঘর-সংসার চলে৷ যখন দেখছি মেয়ের স্কুলের ফি আর দিতে পারছি না, ধারদেনা অনেক হয়ে গিয়েছে, দোকান থেকে লোক এসে ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে, ঠিক এরকম সময় চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বলল, আবার হবে ‘মীরাক্কেল’৷ সিজন নয় শুরু হবে ১০ ডিসেম্বর থেকে৷ অন্য সময় : কলকাতা ইন্টারন্যাশানাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বেধনী অনুষ্ঠানেও তো আপনি অ্যাঙ্কার হওয়ার সুযোগ পেলেন না! মীর : কেআইএফএফ আর বিফ-এই দুই নিয়ে দয়াকরে কোনো প্রশ্ন করবেন না! অন্য সময় : ঠোঁটকাটা মীর ফিরছেন টেলিভিশনে৷ এই খবরে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা টের পেলেন? মীর : কে এক্সাইটেড নয়, চ্যানেলও এক্সাইটেড৷ দুধ দেওয়া গরু! এর মধ্যে মোদি সরকারের এত মাস কেটে গেল৷ কত কিছু জমে আছে৷ আমাদের তো মেকআপ করতে হবে! অন্য সময় : এবার মীরাক্কেল কি আরও অশ্লীল? মীর : দেখুন সেটা তো নির্ভর করবে আপনি আরও কতটা শ্লীল হলেন তার ওপর! এই যেমন সম্পর্ক নিয়ে এখন চারপাশে কত কথা৷ কিন্তু কিছু সম্পর্ক শ্লীল আবার কিছু সম্পর্ক অশ্লীল, সেটা কে ঠিক করবে! এমনিতেও আমাদের শো লেটনাইটে দেখানো হয় (মুচকি হাসি)! এই সেদিন একজন বললেন, ‘আপনারা যে ননভেজগুলো দেন, ভালোই লাগে, এই ফ্লেভারটা আমাদের জীবনে আছে৷ তবে ছেলে দশটা পনোরোতে ঘুমোতে যায়৷ ননভেজগুলো যদি তারপর ‘ছাড়েন’ ভালো হয়!’ অন্য সময় : হিরো হিরইণকে নিয়ে জোকস কিন্তু এবার পুরনো হয়ে গিয়েছে! এ বছর টার্গেট লিস্টের প্রথম তিনটে নাম বলুন প্লিজ! মানে আপনি হাত ধুয়ে যাদের পিছনে পড়ে যাবেন। মীর : হাত ধোয়ার জল কই? জল যে শুকিয়ে গিয়েছে! তবে ‘মোদী’খানার এত বিল যখন বাকি আছে, সেটা নিয়ে অনেক কিছু থাকবে৷ এবার দিদিকে নিয়েও কিছু থাকবে৷ মানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দিদি শুনেছি টেলিভিশন দেখেন৷ বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছি, রাতের দিকে দিদির বাড়ির লোকজনও দেখেন আমাদের শো৷ মানে কার্তিকবাবু, দিদির বৌদি৷ এ কথা শুনে আমরা বুকে বড় সাইজের বল পেয়েছি! অন্য সময় : দেশের নেতা-মন্ত্রীদের নিয়ে ইয়ার্কি? মীর : কমেডি কিন্তু একটা আনন্দ, রিলিজিওন আর পলিটিক্স ছাড়া তো আর হয় না! অন্য সময় : বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা কি এ বছর মনের সুখে জোক বলতে পারবেন মীরাক্কেল-এ? মীর : বাক স্বীধানতা নেই৷ লেখার স্বাধীনতা নেই৷ এবার অডিশনের সময় দেখলাম ভয়-ভয় পরিবেশ৷ সবাই খুব ভেবেচিন্তে কথা বলছেন৷ অনেকে আবার জোকস বলার পর বলছেন, এটা রাখবেন না! আসলে বেড়া টপকে এসে একজন প্রতিযোগী এমন কিছু বলতে পারবেন না, যাতে তার ফিরতে অসুবিধে হয়! মানে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, কারও সেন্টিমেন্টে যাতে আঘাত না দেয় এই শো, সেটা দেখাশোনা করার দায়িত্ব আমাদের৷ তবে বিলো দ্য বেল্ট জোকস যে আগে হয়নি তা নয়৷ ‘এবাবা! এটা অনএয়ার বলা যাবে না’ বলে, অনেক কিছুই প্রতিযোগীরা বলেওছে, লোকে শুনেওছে, লোকে গর্জেওছে, ওয়ার্নিংও পেয়েছি! তবে আমরা আট-ন’মাস দুষ্টুমি করিনি৷ এবার তো মুখ খুলতেই হবে! এমনকী আমরা রুরাল বেঙ্গলে সার্ভে করে দেখেছি, অনেক গৃহবধূরাই বলেছেন, ‘দিব্যি লাগে৷ তবে ওই শ্বশুরমশাইকে ডালটা দেওয়ার সময় এরকম জোক শুরু হয়ে গেলে আবার নুন আনতে যাচ্ছি বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে হয়! কিন্তু একা থাকলে ভালো লাগে’৷ অন্য সময় : আপনার কাছে অনেকেই তো অভিযোগ করেন- মীরাক্কেল আর পরিবারের সবার সঙ্গে বসে দেখা যাচ্ছে না? মীর : আমি তো তাদের বলি শুয়ে দেখুন৷ বা একজন শুয়ে আছে, আপনি তার পাশে দাঁড়িয়ে দেখুন! অন্য সময় : মীরের তো বয়স অনেক হল৷ মিডএজ ক্রাইসিস চলছে জীবনে৷ তার প্রভাব শো-এ পড়বে কি? মীর : প্রভাব পড়বে মানে? সাংঘাতিকভাবে! এবার কিন্তু মীরাক্কেল মানে একটা গোটা পাড়া৷ পাড়ার তিন ভাড়াটে পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত আর শ্রীলেখা মিত্র রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে এসে ব্যালকনিতে বসেন৷ পাড়ায় ‘ডাসা’ বৌদি আছে৷ কচি মেয়ে আছে৷ একজন খেকুরে জেঠু আছে৷ মেকানিকের দোকান, রোলের দোকান, ডাক্তারখানা কিছু বাদ নেই৷ ডাক্তারবাবুর দোকানে আবার শনিবার করে নার্স এলে বেশি ভিড় হয়! অন্য সময় : শ্রীলেখা মিত্রকে কীভাবে বর্ণনা করবেন? মীর : পাড়ার টপ সেলিব্রিটি বৌদি৷ আমার গানের দল নিয়ে আমি রকে বসে গানবাজনা করি৷ টোন-টিটকিরি মারি৷ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, জিত্‍ বা শুভশ্রীর মতো তারকার যখনই যে আসুন, তারা পাড়ায় ঘর খুঁজতে আসেন৷ অন্য সময় : টলিউডের কোন অতিথিকে এবার শো-এ ভীষণভাবে চাইছেন? মীর : দেবকে ভীষণভাবে চাইছি৷ ওর সঙ্গে অনেক কথা জমে আছে৷ শুভশ্রীকেও আনতে চাই৷ মুখ্যমন্ত্রীকে যদি কোনওভাবে আনতে পারি, খুব ভালো লাগবে৷ এর আগেও আমাদের শো-এ শতাব্দী রায় বা মদন মিত্র-র মতো অতিথিরা এসেছেন৷ অন্য সময় : এবার? মীর : আমরা তো ননভেজটা ছাড়তে পারিনি৷ মদন মিত্র শুনেছি ননভেজ ছেড়ে দিয়েছেন৷ তবে আমাদের তরফে আমন্ত্রণ তো রইলই৷ অন্য সময় : বাংলা টেলিভিশনে রিয়্যলিটি শো থেকে কি দর্শক মুখ ফেরাচ্ছেন? মেগা ধারাবাহিকের টেলিভিশন রেটিং তো অনেকটাই বেশি থাকে সাধারণত একটা ননফিকশনের তুলনায়! মীর : কারণ ক্লোনিংটা খুব হয়েছে৷ একটা চ্যানেল গানের রিয়্যালিটি শো করছে তো অন্য একটা চ্যানেলকেও করতে হবে৷ এরকমও দেখেছি একটা চ্যানেলে মেয়ে অডিশনে সিলেক্টেড হয়নি বলে মা বলছেন, ‘তা হলে অন্য চ্যানেলের অডিশনে যাচ্ছি৷ আমার মেয়ের টিভিতে গান গাওয়া নিয়ে কথা!’ আর দর্শক কিন্তু এমন কোনও ধারণায় বিশ্বাস করেন না যে বাংলা টেলিভিশনের শো-ই দেখতে হবে৷ উইকএন্ডে কপিল শর্মা-র শো-এর মতো জনপ্রিয় শো-এর সঙ্গেও প্রতিযোগিতায় পড়ছে বাংলার ননফিকশন৷ আসলে রিয়্যালিটি শো-এর ওভারডোজ যে হতে পারে, এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছি না৷ তবে এটাও ঠিক শুধুমাত্র শহরের মানুষদের রিঅ্যাকশন দেখে কোনও মন্তব্য করলে হবে না৷ পশ্চিমবঙ্গের অনেকাংশেই বাংলা রিয়্যালিটি শো এখনও সাংঘাতিক জনপ্রিয়৷ অন্য সময় : প্রাইমটাইমে কোনও মহিলা অ্যাঙ্কর শো হোস্ট করেন না কেন? মীর : দেয়ার ইজ আ বায়াস! তবে আমি যদি পরিচালনা করি, ভাবতেই পারি ফিমেল অ্যাঙ্করদের কথা৷ রচনা, সুদীপা এরা সকলেই একার ঘাড়ে দারুণভাবে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শো৷ অনন্যার শো-ও শুরু হবে৷ অন্য সময় : অনন্যার মতে তার সবচেয়ে প্রিয় অ্যাঙ্কর সৌরভ৷ অর্থাত্‍ আপনার নামটা তার পরে আসবে! মীর : সৌরভ যে কোনও সময় বেটার৷ ও যে পিচে অ্যাডজাস্ট করেছে, সেরকমটা যদি আমার ক্ষেত্রে হয়, মানে কেউ হাতে ব্যাট ধরিয়ে দিয়ে বলে তুমি রঞ্জি থেকে স্টার্ট করো, আমি তো পারব না! আচ্ছা আমি তা হলে অনন্যার তোকে সেকেন্ড তো? অন্য সময় : আপনি নাকি ফাইনালি রিয়্যালিটি শো পরিচালনা করার কথা ভাবছেন? মীর : তাই? আপনাকে কে বলল? অন্য সময় : কপিল শর্মার শো-এর সঙ্গে টক্কর নিতে বললে মীরের ইনসিকিওরিটি হবে? মীর : আমার কারও সঙ্গে টক্কর নিতেই কোনও ইনসিকিওরিটি নেই৷ আই রেসপেক্ট দ্যাট গাই৷ অনেকেই নর্থ ইন্ডিয়ান ব্র্যান্ড অফ হিউমার নিতে পারেন না বলে, অনেক রকম মন্তব্য আসে৷ কিন্তু যে মানুষটা অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে পুড়কি মারছে, শাহরুখ খানের সঙ্গে এতে সহজভাবে মিশে যাচ্ছে, তার হাততালি প্রাপ্য৷ আর ওই শো-এর টিমের অনেকেই আমার পরিচিত বলে জানি বলিউড সেলেব্রিটিরা কিন্তু অপেক্ষা করে থাকেন, তাদের ছবি প্রেমোট করতে হলে কপিলের শো-এই করবেন বলে৷ ঠিক যেমন এখানে শুনেছি অনেকেই আমার শো-এ এসে ছবি প্রেমোট করতে চান বলে অপেক্ষা করেন৷ আমি কিন্তু বলেই দিচ্ছি, আমার শো-এ এসে ছবি প্রোমোট করতে হলে, ‘বেচুদাদা’ হলে হবে না, এবার পাড়ার একজন হয়ে উঠতে হবে৷ অন্য সময় : শো শুরু করবেন, এদিকে আপনি তো স্পাইনের সমস্যায় প্রচণ্ড ভুগছেন৷ ডাক্তার বলেছেন ‘ননভেজ’ বন্ধ! তা হলে? মীর : সত্যি স্পাইনের সমস্যায় প্রচণ্ড ভুগছি৷ ডাক্তার বলেছেন বিশ্রাম নিতে৷ আমি শো শুরু করার জন্য পঞ্চাশ শতাংশ ফিজিক্যালি ফিট৷ কিন্তু দুশো শতাংশ মেন্টালি চার্জড! অন্য সময় : সৃজিত মুখোপাধ্যায়ও তো এবার টক শো হোস্ট৷ ডিসেম্বরের গোড়ায় আপনাদের দু’ জনের শো-ই আসছে৷ মীর : সৃজিতও বলেছে, বাবা রে অ্যাঙ্করদের কত কিছু মনে রাখতে হয়! মানে কাজটা যে বেশ কঠিন, সেটা টের পাওয়া যায়, নিজে কোনও শো হোস্ট করলে৷ অন্য সময় : তা হলে সামনের দিকে তাকালে মীর এখন কী দেখতে পাচ্ছেন? মীর : লোকজনের পিছনে কী করে লাগবেন, তার ছ’ মাসের ট্রেনিং কোর্স করাচ্ছি আমরা৷ যোগ দিন!

Check Also

ভালো নেই পূর্ণিমা

ঢাকাই সিনেমার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা ভালো নেই। হঠাৎ করে কয়েকদিন ধরে ঠাণ্ডাজ্বর ও গলা ব্যথায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Recent Comments

No comments to show.