Home / মিডিয়া নিউজ / আমি মানুষ হিসেবে ফেক না: নাফিজা

আমি মানুষ হিসেবে ফেক না: নাফিজা

লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতা দিয়ে রূপালি জগতে হয়েছিল পদার্পণ। এরপর অভিনয় করে

পেয়েছেন দর্শকপ্রিয়তা। অবস্থান যখন পোক্ত হচ্ছিল, ঠিক তখনই উড়াল দিলেন সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। থিতু

হলেন স্বামী-সংসার নিয়ে। তবে দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী নাফিজা জাহান। ফিরে এসে

জানালেন, তার ভেতরকার মানুষটা আছে আগের মতোই। ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ধানমন্ডি কার্যালয়ে এসেছিলেন নাফিজা। সে সময় প্রায় এক ঘণ্টার আলাপে ক্যারিয়ার, ব্যক্তিজীবনসহ বেশ কিছু বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

আলাপে নাফিজা জানান, চলনে-বলনে সাবলীলতাই তার সঙ্গী। স্বভাবে ঠোঁটকাটা। এ নিয়ে কে, কী বলল, তা নিয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই তার।

২০০৬ সালে লাক্স সুপারস্টার হয়েছিলেন নাফিজা। এরপর সাত বছর অভিনয়ে থেকে ২০১৩ সালের মাঝামাঝি পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। পরিবারের সঙ্গে এ বছরের ঈদুল আজহার ছুটি কাটাতে ১৬ আগস্ট তিনি ঢাকায় আসেন।

আলাপকালে নাফিজা জাহান জানান, এবারের যাত্রায় তার ঢাকায় আসার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল তার মা, ভাই ও প্রিয় মানুষদের সাথে দেখা করা ও তাদের সঙ্গে সময় কাটানো। কিন্তু আসার পর না চাইলেও কিছু কিছু বিষয়ে তাকে জড়িয়ে নিতে হয়েছে। তা ফ্রেন্ডস-ফ্যামিলি বাদ দিয়ে, আর সেটা শোবিজ। ভিনদেশে থাকলেও মায়া তো রয়েই গেছে।

নাফিজার ভেতরকার মানুষটা আছে আগের মতোই। ছবি: শামছুল হক রিপন প্রবাস জীবন নিয়ে নাফিজা বলেন, \’আগে থেকেই চাইতাম, আমার সুন্দর একটা সংসার হবে। সুন্দর জীবনযাপন করব। ওখানে যাওয়ার পর আমি দেশকে মিস করতাম। সাথে আমার কাজ, বন্ধুবান্ধবসহ সবকিছুই। এটা আমার হাজব্যান্ড বুঝতে পারত।

ও আমাকে ওই জায়গাটা থেকে এমনভাবে বের করে নিয়ে আসছে, একটা সময় অনুভব করলাম আমি ঠিক সময়েই সঠিক সিদ্বান্তটা নিয়েছিলাম। ওর সাপোর্ট পাওয়ার কারণে বিষয়গুলো সহজভাবে নিতে পেরেছি।\’

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর \’৪২০\’ নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান নাফিজা। ২০১৫ সালে সংগীতশিল্পী এস আই টুটুল ও অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদের ভাগ্নে দীপকে বিয়ে করে দেশ ছাড়েন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন নাফিজা। \’আমেরিকাতে সময় কাটছে কী করে?\’-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, \’এখনো কিছু করছি না। তবে যাওয়ার পর চার বছরের একটি কোর্স করেছি। কিছুদিন আগে শেষ করলাম। সেটা মেডিকেল ফিল্ডে। সংসার আর স্কুল ও ফ্রেন্ডদের নিয়েই সময় পার হয়ে যায়। টেরও পাই না। সবকিছু মিলিয়ে বেশ আছি।

আমার হাজব্যান্ডের কথা হচ্ছে যদি তোমার ইচ্ছে হয়, তাহলে তুমি জব করো। তাই আমি কোর্সটা করে রাখলাম। আমার সুযোগ আছে, আমি কেনো কাজে লাগাব না? আমার শ্বশুরবাড়ির মানুষদের কাছে পড়ালেখাটাই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তারা এই বিষয়টাতে বেশ ইন্সপায়ার করে। আমি যে ওই বাড়ির বউ, সেভাবে কেউ ট্রিট করে না। লাইক দ্যাট তাদের মেয়ে।\’

কথার পিঠে কথা তখন জমে উঠেছে। আর সে সময় নাফিজা জানালেন নতুন এক তথ্য-বিয়ের আগে রান্না বিষয়ে তার হাত ছিল কাঁচা। কিন্তু বিয়ের পর ধীরে ধীরে সে হাত পাকিয়ে নিয়েছেন। এখন তার রান্নার প্রশংসায় অনেকেই পঞ্চমুখর হয়ে থাকেন।

সবকিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেশ ভালো আছেন নাফিজা। ছবি: শামছুল হক রিপন পেশাজীবন ছেড়ে বিয়ে, এরপর দেশ ত্যাগ। হুট করেই জীবনে বড় ধরনের পালাবদল। সংসার জীবনে প্রবেশ। যখন আপনার স্বামীর সঙ্গে মতের অমিল হয়, তখন কীভাবে ব্যালেন্স করেন?

\’আমি ছোটবেলা থেকেই বেশ চঞ্চল। তাই কথা না বলে বেশি সময় থাকতে পারি না, যার কারণে কারো সাথে রাগারাগিও খুব একটা হয় না। আমার আর আমার হাজব্যান্ডের বোঝাপড়াটা বেশ ভালো। আমার কথা ছিল সংসারে তো নানান খুঁটিনাটি হবেই।

কিন্তু দুই মিনিটের বেশি কথা না বলে থাকা যাবে না। কথা কাটাকাটি হলেও দুই সেকেন্ড পরে ও আমার দিকে তাকিয়ে হাসি দেয় শেষ। আমার ওই চান্সটাই নাই যে মন ভরে একটু ঝগড়া করব।\’, উত্তরে বলেন নাফিজা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার আগেই পরিকল্পনা করেছেন, দেশে ফিরে পছন্দের খাবারের দোকানগুলোতে একবার করে হলেও ঢুঁ মারবেন। তারও বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন। পুরান ঢাকায় তার পছন্দের কিছু খাবারের দোকান আছে। ওই দিকে গিয়েছেন।

এরপর সোবাহানবাগে সরিষার তেলের তেহারির দোকান আছে, যেটিও তার পছন্দের। সেখানে গিয়েও ঢুঁ মেরেছেন। তার ভাষায়, \’ঢাকায় আসার পর ঘোরাঘুরি আড্ডা, খাওয়া-এর মধ্য দিয়েই সময় কাটছে।\’

তবে এবার ঢাকায় তাকে একটি বিষয় ভীষণ পীড়িত করেছে, তা হলো- মানুষের দ্বিমুখী আচার-আচারণ, যা তার পছন্দ নয়।

ভালো থাকতে চাওয়াটাই নাফিজা জাহানের জীবনের গোল। ছবি: শামছুল হক রিপন নাফিজা বলেন, \’আমি মানুষ হিসেবে ফেক না। ভেতর কিংবা বাহির-দুই দিকেই একই রকম। তাই আমার কাছে ফেক পিপল ভালো লাগে না। মানুষ বলে না, বয়সের সাথে সাথে ম্যাচিউর হয়। আমার কাছে যেটা ভালো লাগে না, চোখ বন্ধ করে ইগনোর করে ফেলি। আমাদের জীবনটা অনেক ছোট। আমি ভালো থাকতে চাই। এটাই আমার জীবনের মেইন গোল।\’

\’আমি স্ট্রেট কথা বলার কারণে কেউ কেউ আমায় পছন্দ করে। আবার কেউ কেউ করেও না। আমি যদি হ্যাপি থাকি, দেন কেউ যদি এসে আমার সঙ্গে মিশে তখন বুঝতে পারবে, কোন সঠিক আর কোনটা ভুল।\’

\’দেখতে দেখতে সংসার জীবনের অনেকটা সময় পার করে ফেললেন। কিন্তু মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করতে ইচ্ছে করে না?\’

জবাবে নাফিজা বলেন, \’নতুন অতিথি, আসলে এটা না অনেক বড় রেসপনসিবিলিটি। আমার আর আমার স্বামীর কথা হলো যখন আমরা রেডি থাকব তখন আমরা নতুন গেস্ট আনব আমাদের বাড়িতে। দেখি শিগগিরই কিছু হয় কি না।\’

ক্লাস ও পরিবারের জীবনের ব্যস্ততাতেই দিন কেটে যায় নাফিজার। অবসরে গান শুনতে পছন্দ করেন তিনি। তবে আলাদা করে মিনারের গান তার খুবই ভালো লাগে। এ ছাড়াও জেমস, আইয়ূব বাচ্চু, বাপ্পা মজুমদার, পার্থ বড়ুয়ার গান শুনতেও ভীষণ ভালো লাগে। এর বাইরে দেশের বাইরের শিল্পীদেরও গান শুনেন তিনি।

সৃষ্টিকর্তার কাছে যেকোনো কিছুর বিনিময়ে হোক একটি বিষয় চান নাফিজা। সেটা হলো টাইম মেশিন। আলাপকালে তিনি বলেন, \’যদি কোনো কিছুর বিনিময়ে টাইম মেশিনটা পাওয়া যেত, তাহলে আমি আর কিছুটা সময় আমার বাবার সাথে থাকতে চাইতাম। বাবাকে ভীষণ মিস করি। যদি যেতেই হয়, একটা নির্দিষ্ট সময়ে আমরা সবাই একসাথে যাই। কেন আগে-পরে?\’

\’পরের জীবনে কী হতে চান?\’-এমন প্রশ্নের উত্তরে নাফিজা বলেন, \’আমি এখন যে পার্সনটা আছি, ঠিক তেমনই হতে চাই। সাধারণ একটা নাফিজা হতে চাই। রিপ্লেস করতে চাই না। আমি আমি হয়েই আবার জন্মগ্রহণ করতে চাই।\’

এদিকে দেশে ফেরার আগে নাফিজা বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করার প্রস্তাব পেয়েছেন। অবশেষে সঞ্জিত চৌধুরীর নির্মাণে একটি নাটকে অভিনয় করছেন। এতে তার সহশিল্পী মীর সাব্বির। কথার শেষে জানালেন, ১৩ অক্টোবর তিনি দেশ ছাড়বেন।

Check Also

খোঁজ পাওয়া গেল সালমান শাহের আরেক নায়িকা সন্ধ্যার

ঢালিউডে তিনি যাত্রা করেছিলেন ‘প্রিয় তুমি’ সিনেমা দিয়ে। সেটা ১৯৯৫ সালের কথা। কলেজে পড়ার সময় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Recent Comments

No comments to show.